January 15, 2024
বিশ্ব রক্তদাতা দিবস ২০২৫: রক্তদান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
প্রতি বছর ১৪ই জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় 'বিশ্ব রক্তদাতা দিবস'। এই দিনে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই সেইসব স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের, যাঁরা বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে লাখো মানুষের জীবন বাঁচান। বাংলাদেশে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনা, অপারেশন, থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসারসহ নানা কারণে রক্তের জন্য অপেক্ষা করেন। রক্তদান নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন, দ্বিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুল ধারণাও কাজ করে।
প্রতি বছর ১৪ই জুন সারা বিশ্বে পালিত হয় 'বিশ্ব রক্তদাতা দিবস'। এই দিনে আমরা কৃতজ্ঞতা
জানাই সেইসব স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের, যাঁরা বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে লাখো মানুষের জীবন
বাঁচান। বাংলাদেশে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনা, অপারেশন, থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসারসহ
নানা কারণে রক্তের জন্য অপেক্ষা করেন। রক্তদান নিয়ে আমাদের মনে অনেক প্রশ্ন, দ্বিধা এবং
কিছু ক্ষেত্রে ভুল ধারণাও কাজ করে।
আসুন জেনে নিই রক্তদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর।
১। রক্তদান কারা করতে পারেন?
উত্তর: ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী, শারীরিকভাবে সুস্থ, অন্তত ৫০ কেজি ওজন হলে রক্তদান করা যায়।
হিমোগ্লোবিন (HB%) ১২.৫-এর বেশি থাকতে হবে।
২। কাদের রক্তদান করা উচিত নয়?
উত্তর: হেপাটাইটিস বি/সি, এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ
রক্তচাপ, ক্যান্সার, মৃগীরোগ থাকলে রক্তদান করা যায় না। সাম্প্রতিক অপারেশন হয়েছে,
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, বা বিগত ৩ মাসে রক্তদান করেছেন—তাঁরা রক্ত দিতে পারবেন না।
৩। কত দিন পর পর রক্তদান করা যায়?
উত্তর: পুরুষরা প্রতি ৩ মাস (৯০ দিন) পর পর এবং মহিলারা প্রতি ৪ মাস (১২০ দিন) পর পর
রক্তদান করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে শরীর হারানো রক্ত পূরণ করে নেয়।
--------------------------------------------------------
৫। রক্তদান করতে কতটা সময় লাগে?
উত্তর: সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে (রেজিস্ট্রেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তদান ও বিশ্রাম) প্রায়
৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। তবে মূল রক্তদান করতে মাত্র ৮-১০ মিনিট সময় লাগে। রক্ত দেওয়ার সময়
একটি সুঁই ফোটানোর মতো সামান্য অনুভূতি ছাড়া আর কোনো ব্যথা হয় না।
-------------------------------------------------------
৬। রক্তদানে কি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?
উত্তর: সাধারণত কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। সামান্য দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি
বমি ভাব বা ক্লান্তি লাগতে পারে, তবে বিশ্রাম ও খাবার খেলে দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। ২৪ ঘণ্টার
মধ্যে শরীরের তরল অংশ পূরণ হয়ে যায়, কয়েক সপ্তাহে লাল রক্তকণিকা পূরণ হয়।
৭। রক্তদান করলে কি স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয়?
উত্তর: এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। রক্তদানের ফলে শরীর দুর্বল হয় না, বরং নতুন রক্তকণিকা
তৈরির মাধ্যমে শরীর আরও সতেজ হয়। এছাড়া রক্তদানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং বিনামূল্যে নিজের
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ পাওয়া যায়।
-------------------------------------------------------------
৮। রক্তদানের আগে ও পরে কী কী সতর্কতা নিতে হবে?
উত্তর: রক্তদানের ৮-১২ ঘণ্টা আগে পর্যাপ্ত ঘুম নিন। রক্তদানের আগে হালকা খাবার খেতে হবে,
প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল পান করা উচিত। পরে ১৫-৩০ মিনিট বিশ্রাম, প্রচুর পানি ও হালকা
খাবার খেতে হবে। ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারী কাজ, সিগারেট বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা উচিত।
---------------------------------------------------------------
৯। রক্ত গ্রহীতার জন্য কী কী সতর্কতা জরুরি?
উত্তর: রক্তদাতার রক্ত গ্রুপ ও সংক্রামক রোগ (HIV/AIDS, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি,
সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া) উপস্থিতি পরীক্ষা হয়েছে কিনা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ
ছাড়া কখনো রক্ত নেয়া উচিত নয়।
-------------------------------------------------------------
১০। নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে রক্ত নেওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: যদিও রক্তের গ্রুপ মিললে যেকোনো ব্যক্তিই রক্ত দিতে পারেন, তবে খুব নিকট আত্মীয়ের
(বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান, চাচা-মামা) রক্ত সরাসরি গ্রহণ করাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিরুৎসাহিত
করা হয়। কারণ এতে গ্রহীতার শরীরে একটি বিরল কিন্তু মারাত্মক রোগ TA-GVHD (ট্রান্সফিউশন
অ্যাসোসিয়েটেড গ্রাফট ভার্সাস হোস্ট ডিজিজ) হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই রোগে রোগীর নিজের ইমিউন
সিস্টেম ধ্বংস হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, এই রোগের পরিণতি প্রায় সবসময়ই মারাত্মক হয়ে থাকে,
যেখানে মৃত্যুর হার ৯০%-এরও বেশি। তাই সবসময় নিকট আত্মীয়ের পরিবর্তে দূর সম্পর্কের আত্মীয়
বা অনাত্মীয় দাতার রক্ত নেওয়া নিরাপদ।
--------------------------------------------------------------------------
প্রশ্ন ১১: সরাসরি পুরো রক্ত (Whole Blood) নেওয়া ভালো, নাকি উপাদান আলাদা করে নেওয়া ভালো?
উত্তর: একজন দাতার কাছ থেকে যে রক্ত সংগ্রহ করা হয়, তাকে বলে পুরো রক্ত বা Whole Blood। এই
রক্তকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এর বিভিন্ন উপাদানে আলাদা করা যায়, যেমন: লোহিত রক্তকণিকা (Red
Blood Cells), প্লাটিলেট (Platelets) এবং প্লাজমা (Plasma)। পুরো রক্তের চেয়ে উপাদান আলাদা
করে নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর ও নিরাপদ। কারণ এতে রোগীর ঠিক যে উপাদানটি প্রয়োজন, শুধু সেটিই
দেওয়া যায় এবং এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে ২-৩ জন ভিন্ন রোগীর উপকার করা সম্ভব হয়। অপ্রয়োজনীয়
উপাদান শরীরে প্রবেশ করে না বলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
ডাঃ আবদুল্লাহ আল মোছাব্বির
MBBS (DMC), BCS (স্বাস্থ্য), MACP (USA), FCPS (মেডিসিন ১ম পর্ব), FCPS (হেমাটোলজি)
রক্তরোগ মেডিসিন ও ব্লাড ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল